Ultra Protagonist's World

প্রারম্ভিক

দিনবয়ান ( সংখ্যা ৪)

যেমন কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন দিলে অক্সিমোরন হয়, তেমনটাই হয় সব জায়গায় হারবে যে, তার নাম দিগ্বিজয় রাখলে । সমসাময়িক ভারতীয় রাজনীতির মানচিত্রে মোদীর মতো দাপুটে , কর্মঠ কোনও নেতা উঠে এসে কর্মবলে ওঁকে রিপ্লেস করে দিক । বিন্দুমাত্র দুঃখ থাকবেনা , আফসোস থাকবে না । কিন্তু রাজনীতির ম্যাপে রাজ্যের উইকলিঙ্ক টিকে থাকার থেকে এখন মোদী তথা বিজেপির মনোলিথ ই থাকুক বরং।

এপ্রসঙ্গে এক বন্ধুর সঙ্গে কথা হচ্ছিল । তাঁর আশঙ্কা মোদীর জ্বালায় ভারতে মিডল ক্লাসটা শেষ হয়ে যাবে । এই মিডল ক্লাস ধ্বংস হবার ব্যাপারে আমার নিজস্ব একটা ধারণা আছে যে – বিশ্বজুড়ে পরিবর্তিত অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সিনারিও তে মিডল ক্লাসের একটা অংশ যারা ঝুঁকি নিতে পারে, সাহসী, ফ্লেক্সিবল- তারা বিত্তবান হবে । তাদেরই কোনও নিকটাত্মীয় দেখা গেল হয়তো ভীষণ গরীব হয়ে গেল- একটা এস্কেপ গতিবেগের অভাবে, ইনারশিয়ার প্রভাবে। আড়াআড়ি ভাঙ্গনটা ঠিক এতটাই নিষ্ঠুর হবে, খাটের পায়ার কাছ থেকে ঘরের মেঝে ভেঙ্গে গিয়ে গায়েব হবার মতোই প্রায় ।
শুধু তা-ই নয়, এসব ব্যাপার ঘটে গিয়ে ফ্যামিলি লিনিয়েজে তীব্র একরকমের সিলেকশন দেখা দেবে। আগামী আশি থেকে একশো বছরে সামাজিক মানসিকতাতেও এই সিলেকশনের প্রভাব ব্যাপক প্রকাশ পাবে ।সামাজিক আইসোলেশন বাড়বে । ব্যবহারে আগ্রাসন বাড়বে । মানুষের কাছে মানুষের দাম কমবে । মানুষ ক্রীতদাস হয়তো হবে না আর , কিন্তু মুদ্রা হয়ে উঠবে । কাজে লাগা বা না লাগার ওপরেই ভিত্তি করে সমস্ত সম্পর্ক গড়ে উঠবে , টিকে থাকবে বা ভেঙ্গে যাবে ।
বন্ধু বলল- তুই কেমন একটা হয়ে গেছিস । অদ্ভুত নিষ্ঠুর মতন । এইসব ভয়ঙ্কর কথা কি শান্ত ভাবে বলছিস। এরকমও তো হতে পারে যে মধ্যবিত্তরা, যারা একান্নবর্তী পরিবারের অংশ ছিল কিন্তু ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে , তারা ঝড়ের সময়ে আবার এক হয়ে যাবার আশায় কাছাকাছি এলেন ।ব্যষ্টি থেকে সমষ্টি গড়ে উঠে সমস্ত ক্ষতিকে রুখে দেওয়া গেল এবং এক সার্বিক সমৃদ্ধি এল ।
বন্ধুটির কথা শুনে নিজের জন্যে কষ্ট হল, কারণ একদিন আমিও ওর মতোই ভাবতাম । নিষ্পাপ মনন ছিল । পৃথিবীটা প্রবাল প্রাচীরের মতোই মোহময় মনে হত আমারও । কিন্তু কিছুই ঠিক থাকেনি । কাছে- দূরে সব পালটে গেছে খুব তাড়াতাড়ি ।
আবার একটু বাদেই বন্ধুটির জন্যেও খুব কষ্ট হল, যে দুদিন পরে সেও আমার এখনকার অবস্থায় এসে পৌঁছবে । কি আঘাত টাই না পাবে যখন ওর স্বপ্নের নিটোল আকোয়ারিয়ামটা সশব্দে ভেঙ্গে পড়বে ।

যদি অমিতক্ষমতা থাকতো , যদি আমি ঈশ্বর হতাম গোটা পৃথিবী টা বদলে যেতে দিতাম, শুধু ওঁর স্বপ্নরাজ্যটুকু ছেড়ে। বলা ভাল পৃথিবীটা ওঁর ভাবনার বিপরীতে বদলে যাওয়া শুরু হতেই এক মায়াবী প্রাচীর দিয়ে ঘিরে নিরাপদ রেখে দিতাম এক টুকরো অভয়ারণ্য।

মানুষজনকে আঘাত দিতে ভালো লাগে না,  তেমন মনোবাঞ্ছাও নেই ;  কিন্তু কি করব ভবিতব্যে রুমাল চাপা দিয়ে রাখাও যে অধর্মই ।

Advertisements

About Anand Sehgal

A graduate researcher, A writer, A poet, A singer, A composer,An actor..............An artist by heart

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Information

This entry was posted on March 24, 2017 by in মুক্তগদ্য, সমকাল and tagged , , .
%d bloggers like this: