Ultra Protagonist's World

প্রারম্ভিক

যে কথাগুলো মনের মরমী স্থানে থাকে (৫)

আজ বড় মনে পড়ে যাচ্ছে আমাদের পুরনো আবাসন, আমার কৈশোরের নন্দনকাননের এঁচোড়ের কথা। বাহ্যিক আকার এবং ভিতরের দানা ইত্যাদি দেখলে আমার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী তিন রকমের কাঁঠাল হতো আমাদের কম্পাউন্ডে । পাকা কাঁঠাল যে খাইনি তা নয় । কিন্তু খাবার থেকেও মন মাতাল করা গন্ধটাই আমার কাছে বেশি প্রিয় ছিল । আমার আসল লোভ ছিল কাঁঠালের দানা এবং এঁচোড়ের প্রতি । এঁচোড় ফালা করে কেটে , তার পর সরু পাত থেকে খোসা ছাড়িয়ে রোদে দেওয়া শিখে গেছিলাম অনেক ছোট বয়সেই । যদিও মা কোনদিনই চাইতেন না এসব নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করি । কারণ কাজের কাজ এর থেকেও আমার স্বেচ্ছায় শ্রমদানের ফলস্বরূপ যে হাত -পা – প্যান্ট এবং পেটে কাঁঠালের আঠার একটা ফাইন আর্টস প্রদর্শনী হবে সে ব্যাপারে মা কোনও কালেই সন্দিহান ছিলেন না । অবশ্য কাঁঠালের দানার ওপরের শক্ত ছাল ছাড়িয়ে দিয়ে রান্নার সময় বাঁচাতে সাহায্য করার জন্যে অখুশিও তেমন হতে দেখিনি । ঝড়ে কাঁঠালের গণ ঝরে পড়া হোক বা গাছ ভেঙ্গে গিয়ে কাঁঠাল কুলের চিরঅনাথ হওয়া – যে কোনও ক্ষেত্রেই আবাসনে একটা সুষ্ঠু সমাজতান্ত্রিক বণ্টন হতো । ওই মুহূর্তে বলাই বাহুল্য ভিতরের পরিবেশপ্রেমী পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়ে রসনাবিলাসী জেগে উঠতেন । নিজের হাতে যে কতিপয় বার ছুরি চালিয়ে কেটেছি ( কাঁঠালের বৃন্ত পুরুষ্টু এবং ছিন্ন করা বেশ অনেকটাই কঠিন, শুধু তাই নয়, এই কাটবার সময়টাই জখম বৃন্তের তরুক্ষীর এবং কাঁঠালের গায়ের আঠা হাতে -জামায়- পাজামায় বেশ করে লেগে যাবার আদর্শ সময় ) ; ছুটির দিনের দুপরে, বাড়ির লোকের নিদ্রায় তলিয়ে যাবার সুযোগ নিয়ে; নিজের সেই মুহূর্তের বা সেই দিনের পছন্দের দিকে তাকিয়ে নিতাম । কখনো বেশ ঝাল করে “গাছ পাঁঠা ” -র ঝোল খেতে ইচ্ছে করছে হয়তো ; যেখানে কোয়াগুলি রান্নার পরে নরম হবে, কিন্তু গলে যাবে না, আঁশ খুলে বেড়িয়ে আসবে না। বেশ নিটোল , পরিচ্ছন্ন টুকরো থাকবে, সঙ্গে সুন্দর মাপ করে কাটা আলু । দারচিনি – এলাচ , প্রয়োজনে মাংসের মশলা দিয়ে তেল ভাসানো ঝোল । তখন একরকম এঁচোড় । সেই এঁচোড়টা লম্বাটে ধরনের ছিল । ওতে অবশ্য দানা ভালো হতো না। শাক দিয়ে দানা বা শুধু কাঁঠাল দানার চচ্চড়ি খাবার জন্যে ছিল বড় দানার , গোল ধরনের একটা কাঁঠালের জাত । সে গাছটি আমরা আবাসন ছেড়ে বেড়িয়ে আসবার সামান্য আগেই ঝড়ে ভেঙ্গে গেসলো , আর সেবারই হয়েছিল গগনচুম্বী মাত্রায় ফলন। হঠাৎ কাল রাতে খেয়ে দেয়ে ফেরবার পথে একটা মিষ্টি বুনো গন্ধ নাকে এসে আলতো ধাক্কা মারায় কাঁঠালের স্মৃতিঘরের দরজা হাট খুলে গেল। সে ঘরে ঢুকে গুটিগুটি হেঁটে যখন আজকের বাসায় পৌঁছেছি , তখন সেখানে আর এখনকার বাড়ি নেই। দাঁড়িয়ে মন্দিরের পাশের সেই গোল কাঁঠালের জমকালো গাছটা । প্রচুর ফল ধরে আছে । মুচি থেকে এঁচোড় হবার অপেক্ষায় আছি আমরা । এঁচোড় থেকে কাঁঠাল অপেক্ষায় আমরা এবং ভেলিগুড়প্রেমী দশাসই ভামের দল । সেখানে প্রার্থনা পুঞ্জীভূত হচ্ছে ।

ঘ্রাণেন অতীত দর্শনেন !

Advertisements

About Anand Sehgal

A graduate researcher, A writer, A poet, A singer, A composer,An actor..............An artist by heart

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Information

This entry was posted on April 22, 2017 by in মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, সমকাল and tagged , , .
%d bloggers like this: