Ultra Protagonist's World

প্রারম্ভিক

কালঘুমসমগ্র ( আষাঢ় ভার্সন )

শুনলাম মেঘ, বিদ্যুৎ আর বৃষ্টি কদিন আগেই বাওয়েন সাহেবের সঙ্গে বসেছিল , এক গোপন বৈঠকে । রোনাল্ড বাওয়েন , রয়্যাল সোসাইটি অফ মেডিসিনের কেউকেটা। ট্রাঙ্কুইলাইজারের আদর্শ কম্পোজিশন নিয়ে বহুক্ষণ আলোচনা চলেছিল অনুমান করা যায় ; কারণ তিন অবিচ্ছেদ্য কুশীলবের ইতিহাস পরিষ্কার বলে দিচ্ছে যে প্লানিং, দানা বাঁধা এবং কার্যসিদ্ধি অতি ধীরে , সুচিন্তিত ভাবেই সম্পন্ন করে থাকেন এঁরা , সুনিপুণ সমন্বয়ের সাহায্যে ।
কাল রাত তখন প্রায় সওয়া দুটো বাজে । একটা হাল্কা লাউঞ্জ মিউজিক চালিয়ে গল্পের বই পড়ছিলাম একমনে। সবটাই ল্যাপটপেই । বাইরের টিপটিপ বৃষ্টিটা হঠাৎ যেন অ্যামবুশ স্টাইলে বেড়ে উঠলো । প্রায় একটা ব্লিতজারিগ । আমি অবশ হয়ে যেন ঘন কালো রাত্রির অংশ হয়ে যেতে লাগলাম । প্রবল ঘুম পেতে লাগলো । মনে হল থোরাজিন – হ্যালডল -সেরেনটিন- সেরোকুয়েল- ভেস্প্রিন এর বিষাক্ত মিশ্রণ কেউ ছুঁড়ে দিয়েছে তাক করে। বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হচ্ছিল যে মাইনর ডোজ , কারণ তখনো ভালো মতো  ভাবতে পারছি , শান্ত মনেই , দুশিন্তা হীন ভাবে । কিন্তু অন্যদিকে ঘুম প্রাবল্য ভয় পাওয়াচ্ছিল যে ফেনোথিয়াজিনের ফেনিল সমুদ্রে আমায় ডুবিয়ে মারার জন্যে এক গভীর চক্রান্ত নয় তো ? ততক্ষণে হেডফোনের লাউঞ্জ মিউজিক ক্রমে বিক্ষিপ্ত ফ্ল্যাঞ্জারের মতো শোনাচ্ছে । কখনো রবার ব্যান্ডের মতো টেনে লম্বা করা অদ্ভুত ভাবে, কখনো বা তার মধ্যে ইয়ো – ইয়োর মতো গুটিয়ে নেবার হ্যাঁচকা টান । সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল । এর মধ্যেই হঠাৎ মনে হল আমার কনুইয়ের ধাক্কা খেয়েই বোধহয় গল্পের বইয়ের বারান্দা থেকে ব্ল্যাক কুইন গোলাপের টব টা কাত হয়ে পড়ে গেল নীচের রাস্তায় ময়লার ভ্যাটের পাশে, আমি কিস্যু করতে পারলাম না। একটা জখম কুকুর হাঁচির মতো শব্দ করে খোঁড়াতে খোঁড়াতে সরে গেল , ব্যাস ! আর কোনও জন-জন্তু নেই কোথাও । খুব ক্ষীণ নাক ডাকার একটা শব্দ কানে এল …… রাতের আর কিছু মনে নেই ।
আজ সকালে ঘুম ভাঙল যখন , তখন দেয়ালজোড়া ক্যানভাসের মতো বড় কাঁচের জানলায় মনে হল যেন তীব্র কালশিটে পড়ে আছে । হঠাৎ পুরুষ্টু লাঠির আঘাত , বা তেজী কালসাপের ক্রুদ্ধ কামড়ে যেমনটা হয়। বাইরে ঘোর বর্ষা । গত রাতের কথা আবছা মনে পড়ছে তখনো । এক কাপ গরম চা তৈরি করে এক ডাক্তার বন্ধুকে , এবং এক পুলিশ বন্ধুকে ফোন করে এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী যথাসম্ভব জানালাম । ওঁরা সব শুনে টুনে বললেন – কেস জটিল , তবে একটা ওষুধ আছে । আমার তখন অনাগত আশঙ্কায় গলা শুকিয়ে এসেছে , ভয় হচ্ছে যে কাল রাতের ফেনার সমুদ্রে আবার ডুবে যাচ্ছি না তো ! ওঁরা দুজনেই বললেন – আজ রবিবার , দুপুরে খিচুড়ি বা নিদেনপক্ষে ডাল -আলুভাজা -ডিমের অমলেট -ভাত এবং রাতে মাটন বিরিয়ানি খেতে হবে । এই চার্ট মেনে চলার পর চব্বিশ ঘণ্টা কাটলে বলা যাবে যে আমি সম্পূর্ণ বিপন্মুক্ত কিনা ।

বলা বাহুল্য যে , এই প্রথমবার ডাক্তার ও পুলিশে ভয় এবং অভক্তি হল না।

Advertisements

About Anand Sehgal

A graduate researcher, A writer, A poet, A singer, A composer,An actor..............An artist by heart

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Information

This entry was posted on June 25, 2017 by in মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, সমকাল and tagged , , .
%d bloggers like this: