Ultra Protagonist's World

প্রারম্ভিক

ফিলিমি ছিলিম

পরপর দুদিন দুটো সিনেমা দেখলাম । বাংলা সিনেমা । “আমরা” আর “এক এককে দুই” । প্রথমটা বেশি ভালো লেগেছে । একটা বিশেষ অভিনবত্বের জন্যেই এই বাড়তি ভালো লাগা । মূল ঘটনা গুলি ঘটে যাবার পর , ডায়লগবিহীন ভাবে সেগুলিকে সংক্ষেপে এবং দ্রুত আরেকবার প্লে করা হয় । খানিক গল্পের রিক্যাপ। খানিক হয়তো বা চরিত্রদের নিজেদের স্মৃতি গুছোনোর বিরতি ।আর বাকিটা হয়তো এমনিই নিস্তব্ধতা । অকারণে আয়না দেখবার অবসর । গোটা গল্পটা জুড়ে কিছু কথা বলা আছে, কিছু ভিউ ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে , সামান্য কাউন্টার ভিউও পাওয়া যাবে কোথাও কোথাও , তবে তা বৈপ্লবিক লেভেলে নয়। কোনও কিছু প্রমাণ করার তাগিদে নয়। এ ছবিতে সে অর্থে কোনও জাজমেন্ট নেই । কিছু মানুষ নিজেদের কথা গুলো বলে গেছেন , একটি নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুকে তাঁরা যেভাবে দেখেন, যেভাবে ভাবেন সেই কথা সোজা সাপটা বলেছেন । ভীষণ অবজেক্টিভ ভাবে । এই পর্যন্ত ডকুমেন্টারি ফ্লেভার পাওয়া যাবে । আর যে মুহূর্তে এক দুটি চরিত্র কোনও স্ট্যান্ড পয়েন্টের জন্য জাস্টিফিকেশন দেন , এক ধরনের ইমোশনাল আউট বারস্ট দেখা দেয় কোনভাবে, এবং তা আরও কিছু ঘটনাকে ঘটতে জায়গা দেয় বা সাহায্য করে, তখনি একটি কাহিনীচিত্রের গুণ প্রকাশ পায়। আমার হিসেবে এই ছবিটি ডকুমেন্টারি বুনটে বোনা একটা মাঝারি দৈর্ঘ্যের কাহিনী চিত্র । যেখানে কাহিনীটা একটা চালিকা শক্তি মাত্র। গল্পটাকে মনোগ্রাহী করার একটা বাণিজ্যিক প্রয়াস । কিন্তু গল্পটির কঙ্কাল এবং রক্ত মাংস জুড়ে আছে তথ্যচিত্রের নিষ্ঠুরতা । যেখানে কর্কশতা ঢাকার প্রয়াসে লাগানো মেদুর প্রলেপ কম, বেশ উল্লেখযোগ্য ভাবেই কম।

দ্বিতীয় ছবিটির প্রথম গল্পটা এক অদ্ভুত ভাবে বোনা । শুরু থেকে শেষ অবধি মূল চরিত্রের দুর্বলতা, অসহায়তা , ফন্দিবাজপনা, অতিচালাকি, পোষাপনা – বন্যপনা, বোকামি- ভাঁড়ামি – এসবই ঢেউ এর মতোই মিলেমিশে পর্দায় আসা যাওয়া বজায় রাখে , এবং দর্শক মনের বালিতে একটু একটু করে আশ্রয় নেয় । গল্পের একেবারে শেষে এক অদ্ভুত মোচড়ে বাস্তব – অধরা বাস্তব – বাসনা – স্বপ্ন – কল্পনা এক লহমার জন্যে হলেও গুলিয়ে যেতে বাধ্য । প্রথম গল্পটি যেখানে শেষ হচ্ছে , দ্বিতীয়টির শুরু সেখান থেকেই । পরের গল্পটির শুরুতে সিনেমাংশের অভিনেতা ও বাকী কুশলীদের নাম দেখানো না হলে আর গাড়ির গতিময় দৃশ্য দিয়ে কাহিনীর দৃশ্যায়ন আরম্ভ না হলে দুই গল্পের বিভেদ বোঝা শক্ত হতো । কারণ প্রথম কাহিনীতে মূল চরিত্রে অভিনয় করা একজন কুশলী দ্বিতীয় গল্পের মাংসল অংশেও বর্তমান । সিনেমাটিতে অভিনয় প্রবল ভালো কিছু নয় । কিন্তু আমার মনে হয়না এই সিনেমাটি অভিনয় দক্ষতা দেখাবার জন্যে বানানো হয়েছিল । এটি শুধুমাত্র একটি ন্যারেটিভ গড়নের দলিল । বুনিপ ক্যালানো বীর বাঙ্গালির এখনকার সিনেমার যা স্টক তার মধ্যে এই নতুন প্রয়াস গুলি অবশ্যই উৎসাহকে বাঁচিয়ে রাখে । ( এই স্টক কথাটার মধ্যে জিত দার সিনেমা বাদ। জিত দার কমার্শিয়াল সিনেমা পোসেনজিতের সিনেমার থেকেও বিনোদন মূল্যে অনেক এগিয়ে থাকবে এবং এখনকার বাংলার যা মিশ্র ডেমোগ্রাফি তার ভিতরের আম জনতার কাছে অনেক বেশি আপিলিং । কারণ লোকটার ভিতর এবং লোকটার সিনেমায় একটা রাফ-টাফ -র ব্যাপার আছে । খেটে খাওয়া মানুষ যেটাকে কেত বলে। আবার সেটা ফুটো কেতও লাগে না কারণ স্ক্রিন প্রেজেন্স ভালো । প্লাস লোকটা সহ চরিত্র দের সঙ্গে নিয়েই সামগ্রিক , ইনক্লুসিভ বেদম খিল্লি করতে পারে , পট বয়লারের লিড রোলের খাট পালঙ্ক বইবার মাঝেও ) সব শিল্পকর্ম তো আর মহানতার পতাকা বইবার তল্পি নেয় নি।
উৎসাহী জনতা দেখতেই পারেন । দুটো সিনেমার কোনটাই খুব স্লো নয়। যেখানে স্লো হতে পারতো সেখানে চানাচুর – চা- নোনতা বিস্কিট দেওয়া আছে । বোর না লাগার জন্যেই । খারাপ লাগবে না।

Advertisements

About Anand Sehgal

A graduate researcher, A writer, A poet, A singer, A composer,An actor..............An artist by heart

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: